জাতির জনকের খুনিদের ফিরিয়ে আনা কঠিন আইনমন্ত্রী আপডেট: 13-08-2018   

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই খুনিকে ফিরিয়ে আনা এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে সপরিবারে খুন হন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর ছয় দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। এর মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র ও নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বেরিয়েছে।

এছাড়া শরিফুল হক ডালিম, কর্নেল রশীদ, মুসলেহ উদ্দীন রিসালদার ও ক্যাপ্টেন মাজেদ বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন।

বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা চার খুনির বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য যদি আমরা প্রকাশ করি তবে তারা জেনে গেল। তাদের অবস্থান তারা পরিবর্তন করবে। সেক্ষেত্রে আমরা যে তথ্যের ভিত্তিকে এগিয়ে যাচ্ছি, সেই তথ্য আর সঠিক থাকবে না। আমার মনে হয়, পরিষ্কারভাবে তাদের পিন ডাউন করতে পারব, তখনই আপনার এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করলে ভালো হয়। সেজন্য আমি ওই প্রশ্নে যাব না।’

‘বাকি দু’জনের একজন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তাকে ফিরিয়ে আনার আলাপ-আলোচনা চলছে। আদালতের আশ্রয় নেব বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেভাবে কাজে এগিয়ে যাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪টি রাজ্যে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল আছে। সেখান থেকে তাদের পেতে আমাদের বেগ পেতে হত না যদি বিএনপি সরকারের আমলে গোপনে তাদের আইনি পদক্ষেপের যে অগ্রগতি সেই বিষয়ে বাংলাদেশ পদক্ষেপ নিত, তাহলে আজকে....’ বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারে আসার পর আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি, তখন আমরা দেখি রাশেদ চৌধুরী আইনিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছেন। সেজন্য আমাদের আবার নতুন করে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। আমরা মনে করি আলাপ-আলোচনা যেটা চলছে তা ফলপ্রসূ হবে। আমি সময় বেধে দিতে পারব না। নতুন একটা প্রশাসন এসেছে, তারা তাদের অন্যান্য প্রায়োরিটিস নিয়ে ব্যস্ত আছে। এটা প্রশাসনের আলাপ-আলোচনার ব্যাপার।’

‘যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, তাতে আমার মনে হয় অগ্রগতি খুব সম্ভব পেয়ে যাব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘খুনি নূর চৌধুরীর ব্যাপারটা হচ্ছে...আপনারা জানেন কানাডায় একটা আইন আছে, যদি কোনো দেশে মৃত্যুদণ্ড থাকে এবং সেই দেশে মৃত্যুদণ্ড সাজা পেতে পারে এমন কোনো আসামিকে তারা ডিপোর্ট করে না।’

তিনি বলেন, ‘একদিকে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, আরেকদিকে এটা কতটা হেনিয়াস ক্রাইম সেটা আমার কানাডিয়ান নতুন সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমাদের ওপর তাদের যথেষ্ট ইয়ে আছে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীও সেটা উত্থাপন করেছিলেন ও আলাপ-আলোচনা হয়েছে।’

‘যেহেতু তাদের আইন আছে, সেটা বহাল রেখেই কীভাবে তাকে হস্তান্তর করতে পারে সেই প্রক্রিয়া আমরা এখন আলোচনা করছি। তারা যেহেতু আলোচনা করতে রাজি হয়েছে, এজন্য আমরা আশাবাদী যে তাদের আনতে পারব।’

এর আগে বলা হয়েছিল এই সরকারের মেয়াদে রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা হবে। এই সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে- এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো সময় নির্ধারণ করে দেব না। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এটা খুব কঠিন হয়ে গেছে এখন।

আমেরিকারটা অতটা না, কানাডারটা কঠিন হয়ে গেছে। সেজন্যই আমরা অনেক রকম পন্থা অবলম্বন করছি- আইনি পন্থা, আলাপ-আলোচনার পন্থা। এগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। তাদের কাছ থেকে যদি নেগেটিভ কিছু পেতাম তবে বলতাম ইয়ে হয়ে গেছে।’

দুই খুনিকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি কতটুকু- জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘অগ্রগতি না হলে তো আলোচনা বন্ধ হয়ে যেত। অগ্রগতি আমি এখন জানাতে চাই না। কথা হচ্ছে, আমি তখনই জানাতে চাই, যখন তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এটার ব্যাপারে আপনাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। প্রত্যেকটি ব্যাপারই যে আপনাদের জানিয়ে চালিয়ে যাব তা নয়। যে খবরটা আপনাদের দিতে চাই তা হলো একটা সিদ্ধান্তের খবর। এর কারণ অনেকবার বলা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্তে আসা হয়নি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তখনই জনগণকে জানাতে চাই যখন একটা সিদ্ধান্ত পেয়েছি এমন একটা অবস্থা হবে।’