নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় ভারত: জাতীয় পার্টির আপডেট: 27-07-2018   

ভারত সবসময়ই বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করে।দুপুরে রাজধানীর বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জানিয়েছেন,  দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে তাদের পাঁচ নেতার ভারত সফরে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে তাদের নৈতিক সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে।

 

রুহুল আমিন হাওলাদার জানান,  জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থেকেও সরকারের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রশংসা করেছেন।হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে পার্টির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করেন। এই সফরে এরশাদের সঙ্গে ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সুনীল শুভরায় ও মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার।

গত ২২ জুলাই বেলা ১টায় নয়াদিল্লি পৌঁছান এরশাদ ও তার দল। ২৫ জুলাই বিকাল ৪টায় ঢাকা ফিরে আসেন তারা।সংবাদ ব্রিফিংয়ে রুহুল আমীন হাওলাদার জানান, ‘এই সফরটি ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত ছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে না থাকার কারণে তার সঙ্গে বৈঠক হয়নি।

তবে তার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ২৩ জুলাই দুপুর দেড়টায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে আমাদের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় ভারতের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে তার বাসভবনে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তিনটি বৈঠকই অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ওই তিন নেতার সঙ্গে প্রায় অভিন্ন বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।জাপা মহাসচিব বলেছেন, ‘ভারতীয় নেতারা তাদের জানিয়েছেন, ভারতের সরকার এবং জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় দেখতে চায়। তারা একান্তভাবে প্রত্যাশা করেছেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ যেন বজায় থাকে।

এ প্রসঙ্গে, বাম গণতান্ত্রিক জোটের আহ্বায়ক জনাব সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বা নির্বচন নিয়ে ভারতের নেতারা জাতীয় পার্টির নেতাদের যা বলেছেন তা একটা কূটনৈতিক বক্তব্য মাত্র। কার্যত তারা যা করে তা এর বিপরীত।  ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তাদের ভুমিকা থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে।

এর আগে গতরাতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেছেন, ভারত আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী, একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু। তাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের একটা প্রভাব থাকবেই। কিন্তু তারা আমাদের  ভোট করে দেবে না। এদেশের জনগণই ভোট দিয়ে সরকার বানাবে।

 

ভারতীয় সংবাদ বিশ্লেষক ভারত ভূষন সম্প্রতি তার এক নিবন্ধে ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভারত সরকার যেন বাংলাদেশের কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন না করে এ দেশের জনগণের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে। নেপাল, শ্রীলংকা বা মালদ্বীপে ভারত যেমন ভুল করেছে তা যেন বাংলাদেশের বেলায়ও না করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ