প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় দলীয় নেতারা নির্বাচনী এলাকায় আপডেট: 16-06-2018   
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঈদুল ফিতর উদযাপন একটু ব্যতিক্রম অর্থবহন করলেও বরাবরের মতোই ঢাকায় ঈদ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে দলটির অধিকাংশ নেতারাই ঈদ উদযাপন করছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২ জুন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সফর করেন। আর ১৪ জুন নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চলে গেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ করবেন ঢাকায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে। ঈদের নামাজের পর প্রতি বছরের মতোই সকালে আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিদেশি কূটনীতিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। সকাল ৯টা থেকে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হবে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে এবার তিনি এলাকায় যেতে পারবেন না। ফলে তাকে এবার ঢাকাতেই ঈদ করতে হচ্ছে। তবে প্রতিবারের মতো এবারও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ঈদ করবেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ঈদ করবেন তার নির্বাচনী এলাকা ভোলায়। দলটির অপর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এবার নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে যাচ্ছেন না। তিনি এবার ঢাকায় ঈদ করবেন। আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ঈদ করবেন ঢাকায়। আরেক সদস্য সদস্য শ্রী পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্যও ঈদ করবেন ঢাকায়। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তিনি নামাজ আদায় করবেন। এরপর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। আর লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান ঈদ করবেন ঢাকায়। ক্যান্টনমেন্ট মসজিদে নামাজ আদায় করে গণভবন ও বঙ্গভবনে যাবেন তিনি। কাজী জাফরউল্লাহ ঈদ করবেন তার নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরে। ইতোমধ্যে গত ১০ দিন তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন। ঈদ করে ঢাকায় ফিরবেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঈদ করবেন ঢাকায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডা গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেও তিনি ঈদের পরে দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। তবে রোজার মধ্যে বেশ কয়েকবার তিনি নিজ এলাকা কুষ্টিয়া ঘুরে এসেছেন। বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার। অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকায়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি নিজ এলাকা চাঁদপুরের মানুষের সঙ্গে ঈদ করবেন। এছাড়া আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানও ঈদ করবেন তার নিজ এলাকা ফরিদপুরের মানুষের সঙ্গে। দলটির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ঢাকায় থাকছেন। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুতিজ রায় নন্দী রোজার শুরু থেকেই নিজ এলাকা চাঁদপুরে আসার যাওয়ার মধ্যেই আছে। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ এবং বন পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ঈদ করবেন ঢাকায়। আর সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ঈদের দিন সকালে ঢাকায় থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরেই চলে যাবেন নিজ এলাকা নেত্রকোনায়। ঈদের আগেও বেশ কয়েকবার তিনি এলাকায় গিয়ে ঘুরে এসেছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক মধ্যে আহমেদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবার ঈদে ঢাকায় থাকছেন। তবে তারা তিনজনই ঈদের আগে নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। ইফতার পার্টিসহ অংশ নিয়েছেন বেশ কিছু অনুষ্ঠানেও। ঈদের পরপরই আবার এলাকায় গিয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানান তারা। এছাড়া আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জয়পুরহাটের নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।