বাম্পার ফলনেও কৃষকের নাভিশ্বাস আপডেট: 14-06-2018   
কৃষক যারা দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান দেয়। যারা খাদ্য সঙ্কট নিরসনে মূল প্রদায়কের ভূমিকা পালন করে। ধানের চারা রোপনের পর থেকে যারা ধানের কুশিতে কুশিতে স্বপ্ন বোনে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে যারা ধান চাষ করে। সেই কৃষকের আশায় গুড়ে বালি পড়ে ধান যখন ঘরে আসে। কৃষক ধানের দাম পায় না- একথা প্রত্যেক মৌসুমেই লেখা হয়। রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা সবাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকেন কিন্তু সমস্যা সমস্যাই রয়ে যায়। সমাধান আর হয় না। বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবমুখী চিন্তা-ভাবনা না থাকার কারণে একাধারে ঠকছেন কৃষক ও ভোক্তা। কৃষক যেমন পান না তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য, তেমনি ভোক্তারাও নিষ্পেষিত হন মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে। এসব বিষয় নিয়ে কৃষক, মধ্যস্বত্বভোগী, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ধানচাষির সুখ-দুঃখ নিয়ে তিন পর্বের একটি ধারাবাহিক রিপোর্ট তুলে ধরা হলো। আজ এর প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হলো- বগুড়া জেলার ধুনট থানার চরপাড়া গ্রামের কৃষক আকিমুদ্দিন শেখ, গত বছর ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এবারও ১২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু বাজারে ধানের বর্তমানে যে দাম তাতে ধান বিক্রি করে তার খরচ উঠছে না। আকিমুদ্দিন শেখ বলেন, গত এপ্রিল মাসে যে ধানের দাম ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা মণ ছিল, সেই ধান এখন প্রকার ভেদে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এই দামে ধান বিক্রি করলে আমরা নিঃশেষ হয়ে যাব। ধানের উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় দেশের সব কৃষকের নাভিশ্বাস উঠেছে। এমন অবস্থা শুধু বগুড়ার কৃষক আকিমুদ্দিনের নয়, সারাদেশের কৃষকের একই অবস্থা। গত বছর ধানের দাম পাওয়ায় এবার কৃষক বেশি বিনিয়োগ করেছে এ খাতে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। কেউ কেউ বলছেন, রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর হিসেবে এই সিজনে এক কোটি ৯৭ লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বের ফসলের উৎপাদন বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে এবার আগের বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি ধান উৎপাদিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এক লাখ হেক্টর বেশি জমিতে এবার ধানের চাষ হয়েছে, যা বিশ্বের মোট চালের উৎপাদনকে রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দেবে। ধানের দাম প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাগো নিউজকে বলেন, কৃষকের পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের আরও বেশি দায়িত্ব নেয়া উচিত। এজন্য সরকারের দৃষ্টি রয়েছে। সার, বীজ ও বিদ্যুতে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ফসলের প্রাথমিক মূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যের মধ্যবর্তী ব্যবধান অনেক বেশি। ব্যবসায়ীদের অনেকে অতি মুনাফা করছেন। এটা অনুচিত। কৃষক ও ব্যবসায়ী দুই পক্ষের জন্য উইন-উইন পরিস্থিতি তৈরিতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। তবে ধানের দাম নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। ধানের দাম প্রসঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি জাগো নিউজের এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি ছাড়া দুনিয়ায় আর কেউ নেই? আপনারা সরাসরি সচিবকে নক করেন কেন? এ বিষয়ে আমি কিছু বলবো না’।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ