শ্রমিক অধিকার আদায়ের দাবিতে মুখরিত প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ আপডেট: 01-05-2018   
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন মিছিল, র্যালি, মানববন্ধন ও সমাবেশে করে দিবসটি পালন ও নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন। শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার আদায়ের দাবিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ। ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একের পর এক আসতে থাকে মিছিল। সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০টি শ্রমিক সংগঠন প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর প্রাইভেট কার ও ট্যাক্সি ক্যাব ড্রাইভার্স ইউনিয়ন, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, দি সিটি ব্যাংক কর্মচারী পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী মটরচালক লীগ, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম, রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশন, জাগো বাংলাদেশ শিশু কিশোর ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, কারিতাস সেফ প্রকল্প, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক, ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের (টাফ) সভাপতি ফায়জুল হাকিম বলেন, 'আজকে শ্রমিকরা সবচেয়ে বঞ্চিত শ্রেণি। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা মালিক দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকরা সমাজকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।' শ্রমিকের কর্মেই দেশ আজ উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে হলে শ্রমিকদের উন্নতির বিকল্প নেই।’ এ সময় তিনি কয়েকটি দাবির কথা বলেন, এর মধ্যে রয়েছে- শ্রমিকদের সপ্তাহে দুই দিন ছুটি দিতে হবে, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে, ২৪ এপ্রিল শ্রমিক গণহত্যা দিবস ও সব শ্রমিক হত্যার বিচার করতে হবে, শিল্প পুলিশ ও শিল্প গোয়েন্দা বাতিল করতে হবে।’ বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন, ‘হোটেল শ্রমিকরা কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ভোক্তাদের সার্ভিস দেন। অথচ তাদের দাবির বিষয়টি অবহেলিত। আজও নির্ধারিত হয়নি তাদের শ্রমঘণ্টা। তিনি দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক প্রদান, আইনি সুরক্ষা দিয়ে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে।’ অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবিসহ পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের র্যালি শেষে শ্রমিক সমাবেশে নাজমা আক্তার বলেন, ‘শ্রমের বিনিময়ে গার্মেন্ট শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না।’ ন্যুনতম ১৬ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি। মানববন্ধনে শ্রমিক গণতান্ত্রিক মোর্চার নেতৃবৃন্দ বলেন, 'পহেলা মে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবসের অধিকার পুঁজিবাদী শ্রেণি ঘোষণা করলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আজও শ্রমিকদের ১২/১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, এটা নিঃসন্দেহে শ্রমিকদের উপর