কাদের বেশি কথা বলেন মোশাররফ আপডেট: 26-03-2018   
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বেশি কথা বলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘স্বৈরতন্ত্রের কবলে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরকে ছাত্র রাজনীতিতে এনেছিলাম আমি। তাই আমি জানি বেশি কথা বলার সময় মাঝে মধ্যে তিনি কয়েকটা সত্য ও বেফাঁস কথা বলে ফেলেন। বেশি কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, পৃথিবীর কোথাও নির্বাচনের আগে নির্দলীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সরকার প্রধানের পদত্যাগের নজির নাই। বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের ইতিহাস কি তিনি জানেন না? জানলে এরকম উক্তি কীভাবে উচ্চারণ করেন?’ খন্দকার মোশাররফ আরো বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বেশি কথা বলার কারণে বলে ফেলেছেন আওয়ামী লীগ কাউয়াদের দল। আওয়ামী লীগ হাইব্রিডের দল। আবার বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলে পিঠের চামড়া থাকবে না, যে টাকা উপার্জন করেছে তা নিয়ে পালাতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচির জন্য আওয়ামী লীগের জ্বালাও বাড়ছে। কেননা, তারা ষড়যন্ত্র করে আমাদের ফাঁসানোর কোনও সুযোগ পাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠানোর পর বিএনপি রাজপথে আন্দোলনে নেমে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুক। আর সেই সুযোগে আওয়ামী লীগ তাদের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রেখেছিল পেট্রলবোমা ও লাঠিসোটা নিয়ে। তাদের এই মতলব আমরা আগেই টের পেয়েছিলাম। তাই আমরা আমাদের নেত্রীর নির্দেশে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে নেমেছি। তবে এতে তাদের জ্বালার পরিমাণ বেড়ে গেছে। কেননা, তাদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। তাই তারা বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের আটক করে কারাগারে পাঠাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এখনই উন্নয়নশীল দেশ বলে ঘোষণা দেয়নি। কিছু শর্ত আছে সেগুলো পালন করার পর আগামী ৬ বছর পরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে পারে। কিন্তু সরকার এখন এটা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করে জনগণকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সর্বসেরা স্বৈরশাসক হিটলারের চেয়েও উপরের স্থানে থাকে তার কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি আশা করা যায় না। জার্মানির এখন বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখা উচিত কীভাবে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে হয়। সংগঠনটির সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম।