তালেবানের আস্তানায় রোমহর্ষক ধর্ষণের বর্ণনা আপডেট: 21-11-2017   
ধাক্কা মেরে কেটল্যানকে ঘরের মেঝেতে ফেলে দিয়ে এক এক করে খুলে নেয়া হয়েছিল পোশাক। আর সেগুলো ছুড়ে ফেলা হয়েছিল ঘরের মেঝেতে। পরে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তালেবান জঙ্গিরা। পর পর ধর্ষণ করেছিল তিন জঙ্গি। গণধর্ষণের পর কেটল্যানকে পোশাক আর ফেরত দেয়নি তারা। কেট্ল্যান বলেন, এ জানোয়াররা আমার কাপড়গুলো কখনোই ফিরিয়ে দিতে পারবে না। স্বামী, তিন সন্তানকে নিয়ে আফগানিস্তানে তালেবান আস্তানায় তার টানা পাঁচ বছর বন্দি থাকার দিনগুলোর কথা এভাবেই স্মরণ করলেন কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ৩১ বছর বয়সী কেটল্যান কোলম্যান বয়েল। ঘটনা ২০১২ সালের। তখন সদ্য কানাডার নাগরিক জোশুয়া বয়েলকে বিয়ে করেছেন কেটল্যান। ঘুরতে যান আফগানিস্তানে। সেখানে এক দিন কেটল্যান ও জোশুয়াকে অপহরণ করে জঙ্গিরা। চোখে কাপড় বেঁধে, বন্দুকের মুখে দু’জনকে তাদের গোপন আস্তানায় নেয়া হয়। সেখানে বন্দি থাকা অবস্থাতেই তিন সন্তানের মা হয়েছেন কেটল্যান। গত মাসে পাকিস্তানে মুক্তি পাওয়ার পর এবিসি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কেটল্যান বলেন, ‘ওরা আমার ওপর, আমার স্বামী, ছেলেমেয়েদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার করেছে, তা ভাষায় প্রকাশের মতো নয়। ওরা শিশুদেরও রেহাই দেয় না। আমাকে প্রচণ্ড মারধর করা হতো। আমার সারা গায়ে কালো ক্ষত পড়ে গিয়েছিল। ঘরে ঢুকে আমাকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া করতো জঙ্গিরা। এক জঙ্গি আমাকে ব্যবহারের পর ঘরের অন্য প্রান্তে ছুড়ে দিতো। সেখান থেকে আমাকে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে আরেক জঙ্গি।’ কেটল্যানকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে তালেবান জঙ্গিরা, তাদের গোপন আস্তানায়। বাধা দিতে গেলেই মারা হতো চাবুক। লাঠি দিয়েও কেটল্যান, তার স্বামী জোশুয়া আর তাদের তিন শিশুসন্তানকে বেধড়ক পেটানো হতো। জঙ্গিদের মারধরের হাত থেকে স্বামী জোশুয়া আর ছেলেমেয়েদের বাঁচাতে গিয়ে তার চিবুকের হাড় আর হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে যায়। কেটল্যানের স্বামী জোশুয়া বলেন, ‘প্রায়ই আমাদের মাথা কেটে ফেলার হুমকি দিতো জঙ্গিরা। কাঠের টুকরা দিয়ে পুতুল বানিয়ে বোতলের ছিপি দিয়ে তাদের মাথা বানানো হত। আর সেই পুতুলগুলো আমাদের সামনে এনে দেখানো হতো, তাদের ওপর থেকে বোতলের ছিপি সরিয়ে নেওয়ার মতো কি সহজে আমাদের মাথা কেটে ফেলা হবে।’
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ