ট্রাম্পখড়্গ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন এক ইরানি আপডেট: 03-02-2017   

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাতটি মুসলিম দেশের ওপর ট্রাম্প যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন আদালতের হস্তক্ষপে তা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর প্রথম অভিবাসী হিসেবে একজন ইরানি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন।  
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কারণে আলি ভায়েগান নামের এক ইরানিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে আটকে দেয়া হয়। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আলি ভায়েগানকে একটি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়। এর আগে তাকে একটি বদ্ধরুমের মধ্যে আটকে রাখা হয়। 
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ার পর ১৫ হাজার মাইল পাড়ি দেয়ার ছয়দিন পর বৃহস্পতিবার আবারো লস অ্যাঞ্জেলস বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালেন ভায়েগানকে। সেখানে তাকে একটু ভিন্নভাবেই স্বাগত জানানো হয়। 
ট্রাম্প যে সাতটি দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এর মধ্যে ইরানও রয়েছে। এর আগে সারা ইয়ারজানি নামে ইরানি বংশোদ্ভূত এক শিক্ষার্থীকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। 
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কারণেই ৬১ বছর বয়সী আলি ভায়েগানকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছিল না। তাকে বের করে দেয়া হয়েছিল। এতে তিনি খুব আহত হয়েছিলেন। কিন্তু যখন বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলস বিমানবন্দরে প্রবেশ করলেন তখন এক অন্য রকম পরিবেশ তৈরি হলো। যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেয়ার জন্য তার আত্মীয়-স্বজন আইনজীবী এবং বহু সমর্থক লড়াই করেছেন। অবশেষে আলি ভায়েগানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়াটা তাদের এই লড়াইয়ের অন্যতম সফলতাই বটে। 
আলি ভায়েগানকে নিষিদ্ধের বিষয়ে সরকার যে আদেশ জারি করেছিল তা জরুরি ভিত্তিতে স্থগিত করে দেয় স্থানীয় একটি আদালত। হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন ভায়েগান। এটা তার পক্ষে লড়াই করা লোকজন এবং যেসব দেশের ওপর ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তাদের জন্য বড় একটি পাওয়া। 
অভিবাসী ভিসায় লস অ্যাঞ্জেলস বিমানবন্দরে পা রাখার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলি ভায়েগানের সাক্ষাতের মুহূর্ত এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছিল। সেসময় বিমানবন্দরে লস অ্যাঞ্জলসের মেয়র এরিক গারসেটি, বেশ কয়েকজন আইনজীবী, সাংবাদিক এবং আলি ভায়েগানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সমর্থন দেয়া বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারার অনুভূতি সম্পর্কে আলি ভায়েগানকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, ‘এটাই হচ্ছে মানবতা। এটাই হচ্ছে মানবিক অধিকার। আমি প্রথম দিকে কিছুটা আহত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন এই সম্মান আর শ্রদ্ধায় আমি সত্যিই সম্মানিত।’