জাসাস আয়োজিত বিএনপির বর্ষবরণে লোক নেই রিকশাচালকরা এলেন গান শুনতে আপডেট: 15-04-2018   
জাসাস আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর না থাকায় অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল নগন্য। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানের মাধ্যমে `বাংলা নববর্ষ-১৪২৫’ বরণ করে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দলের সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত গীতিকার ও পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পরিচালনায় ‘সংস্কৃতি থেকে সমৃদ্ধি’ গীতিনাট্য পরিবেশিত হয়। এর সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন কিসলু। বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে কন্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনসহ শিল্পীরা বৈশাখের বার্তা সম্বলিত বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। বর্ষবরণ মঞ্চে রাজশাহী অঞ্চল থেকে আসা শিল্পীদের গম্ভীরা পরিবেশন চলাকালে এ প্রতিবেদককে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘লোক নাই, নেতাকর্মীর চেয়ে উৎসুক জনতা বেশি।’ তিনি বলেন, ‘লোক হবে কিভাবে? সবাই গ্রেফতার আতঙ্কে। এ সময় তিনি প্রতিবেদনে তার নাম না লেখার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন। কেবলমাত্র গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে নেতাকর্মীরা তো কর্মসূচি থেকে দূরে থাকতে পারে না, আর কী কী কারণে নেতাকর্মীদের সমাগম কম হয়েছে বলে আপনি মনে করছেন-জানতে চাইলে বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কোনো অনুষ্ঠানে থাকলে তার যে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, এটা আপনি অন্য অনুষ্ঠানে খুঁজলে পাবেন না। তাছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মা মারা যাওয়ার কারণে তিনি এই কর্মসূচিতে থাকতে পারেননি। সার্বিক কারণে লোক সমাগম হয়নি।’ এ সময় কথা হয় যুব দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক একজন সদস্যের সঙ্গে। অনুষ্ঠানে লোকসমাগম কম হওয়ার প্রসঙ্গে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাম প্রকাশ করা যাবে না।' এরপর তিনি বলেন, দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে লোকসমাগম দেখে মনে হচ্ছে গ্রামের সাপ খেলার অনুষ্ঠান। বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায়ের কেউ নেই। তিনি বলেন, তারা যদি থাকতো, তাহলে তাদের সঙ্গে কর্মীরাও থাকতো। তারা থাকলে এটা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মতোই মনে হতো।’ তার কথার কিছুটা প্রতিফলন অনুষ্ঠানে দেখা গেলো। অন্যবারের অনুষ্ঠানগুলোতে যেখানে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্ব পর্যায়ের লোকজন থাকতো, কিন্তু এবার কাউকে দেখা যায়নি। বেশ কিছু রিকশাচালক সড়কে রিকশা রেখে জাসাসের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। এই রিকশাচালকদেরই একজন বলেন, ‘বেবী নাজনীনের গান শুনি, এখন চোখের সামনে দেখতেছি। একবেলা রিকশা না চালালে বেশি ক্ষতি হবে না।’ র্ষবরণ অনুষ্ঠানে লোক সমাগমের বিষয়ে জানতে চাইলে জাসাসের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মামুন আহমেদ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল খানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন নেতারা লোকসমাগম নিয়ে যে হতাশা প্রকাশ করেন সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘না, আমাদের সাকসেসফুল প্রোগ্রাম হয়েছে।’ জাসাস কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।