গোরক্ষার নামে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আপডেট: 22-03-2018   
ভারতের ঝাড়খণ্ডে গোরক্ষার নামে গণপিটুনিতে হত্যার দায়ে এক বিজেপি নেতাসহ ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আজ (বুধবার) রামগড়ের ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট আদলত ওই সাজা ঘোষণা করেছে। বিচারপতি ওম প্রকাশের আদালত এ ব্যাপারে গত ১৬ মার্চ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪২৭/৪৩৫/৩০২ ধারা অনুসারে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। ২০১৭ সালের ২৯ জুন আলিমুদ্দীন আনসারি নামে এক ব্যক্তিকে গরুর গোশত বহন করার সন্দেহে গোরক্ষকরা গণপিটুনিতে হত্যা করেছিল। আদালত এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিহিত করেছে। এক বিজেপি নেতাসহ ১১ জনকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা মোতাবেক দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এদের মধ্যে তিন জনকে ১২০ বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারা অনুসারে দোষী সাব্যস্ত হয়। সাজা প্রাপ্তরা হলেন, সন্তোষ সিং, দীপক মিশ্র, ভিকি শ’, সিকন্দর রাম, উত্তম রাম, বিক্রম প্রসাদ, রাজু কুমার, রোহিত ঠাকুর, ছোট্টু ভার্মা, কপিল ঠাকুর, এবং স্থানীয় বিজেপি নেতা নিত্যানন্দ মহাতো। আসামীপক্ষের আইনজীবী ডি এন সিং বলেন, তারা ওই রায়ের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে আবেদন জানাবেন। আলিমুদ্দীন আনসারি গাড়িতে করে গরুর গোশত নিয়ে যাচ্ছিলেন সন্দেহে তার উপরে উগ্রহিন্দুত্ববাদী জনতা তার উপরে হামলা চালায় এবং তার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত আলিমুদ্দীনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তিনি মারা যান। আলিমুদ্দীনের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন তার স্বামীর হত্যার ঘটনায় হিন্দুত্ববাদী বজরং দল দায়ী এবং ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনিই এ ব্যাপারে রামগড় থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। প্রশাসন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সাহায্য করেছে বলেও তিনি জানান। ওই ঘটনায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলার শুনানি শেষ করার জন্য ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হয়। আদালত এ ব্যাপারে প্রায় ৮ মাসের মধ্যেই শুনানি শেষ করতে সমর্থ হয়। এ ব্যাপারে আজ (বুধবার) সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে একে ঐতিহাসিক রায় বলে অভিহিত করেছেন। রেডিও তেহরানকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ঝাড়খণ্ডে আলিমুদ্দীন আনসারি গরুর গোশত বহন করছেন এমন মিথ্যা অভিযোগে স্বঘোষিত গোরক্ষকরা দিনের আলোয় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। আজ এক ঐতিহাসিক রায়ের মধ্য দিয়ে বিজেপি নেতাসহ ১১ জনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। আমরা মনে করি ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপরে মিথ্যা অভিযোগে তাদেরকে মারা, অত্যাচার করা যে অত্যন্ত অপরাধ তা বিচারব্যবস্থা আরো একবার প্রমাণ করে দিল। আমরা আশা করব আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে এভাবেই সুনিশ্চিত করবে এবং ধর্ম পালনের অধিকারকে তারা অক্ষুণ্ণ রাখবে।’
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ