কংগ্রেসকে বাইরে রেখে বিজেপি বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট গড়তে মমতা চন্দ্রশেখর বৈঠক আপডেট: 21-03-2018   
ভারতে বিজেপিকে রুখতে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসকে বাইরে রেখে ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ার জন্য বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। গতকাল (সোমবার) বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নে মমতা ও চন্দ্রশেখরের মধ্যে দু’ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমরা ফেডেরাল ফ্রন্ট চাই। একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সকলের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাড়াহুড়ো নেই যে আজই সব করতে হবে। রাজনীতিতে সময় লাগে। পরিস্থিতি কখনো কখনো এমন হয় যে, সকলের কাছে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ আসে। তাতে ভাল হয়।’ বিজেপি’র নাম না করে মমতার কটাক্ষ, ‘একটা দল একদলীয় শাসনের মতো যা চাইবে, তাই হবে, এমনটা ভাবছে। গণতন্ত্রে সবার কথা শুনে, সবাইকে নিয়ে চলাটাই রীতি।’ গত রোববার অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খুব শিগগিরি তার দিল্লি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মমতা ফেডারেল ফ্রন্ট গড়া নিয়ে কথা বলতে পারেন। অন্যদিকে, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী ও ‘তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি’র (টিআরএস)প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাও বলেছেন, ‘বিজেপির অপদার্থতার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে মানুষ কংগ্রেসকে ভোট দেবে। তাতে কি দেশের হাল পাল্টাবে? সে জন্যই তৃতীয় বিকল্পের প্রয়োজন। ফেডারেল ফ্রন্ট কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়ের থেকেই সমদূরত্ব বজায় রাখবে।’ আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ে বিজেপিকে মোকাবিলা করা প্রসঙ্গে আজ (মঙ্গলবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মনে হয় ভারতের যে বিরাট আয়তন ও প্রেক্ষাপট তাতে আঞ্চলিক দলগুলো আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সাফল্য পাচ্ছে সেটা ঠিক। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে একটা জাতীয় দলের ছত্রছায়ার বাইরে থেকে কতগুলো আঞ্চলিক দল নিজেদের মতো করে সমঝোতা করে ভারতীয় রাজনীতির চিত্রকে বদলে দিতে পারবে তা মনে হয় না। হয়তো কিছুসংখ্যক আসন তারা আয়ত্ত করবেন কিন্তু তার পরে যদি সেটা ঘটনাচক্রে কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছে যায় অর্থাৎ উপযুক্ত সংখ্যক আসনও তারা পান, তার পরেও আমার মনে হয় না যে এই আঞ্চলিক দলগুলো সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে নিজেদের গ্রহণযোগ্য অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে পারস্পারিক যেসব এজেন্ডা থাকবে সেগুলো বড় হয়ে উঠবে এবং মতৈক্য হবে না, শেষ পর্যন্ত ওই প্রচেষ্টা ভারতকে আরো পিছনের দিকে ঠেলে দেবে বলে মনে হয়।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ