বাবরী মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ে সালমান নাদভিকে বহিষ্কার আপডেট: 13-02-2018   
ভারতে বাবরী মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ে ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড’ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা সালমান হুসেইন নাদভিকে। হায়দ্রাবাদে ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড’-এর তিন দিনের বৈঠক শেষে আজ এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর আগে ল’ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য কামাল ফারুকী এবং ডা. কাশিম রসুল ইলিয়াস মাওলানা সালমান হুসেইন নাদভির মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, বেঙ্গালুরুতে শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সঙ্গে বৈঠক শেষে সালমান নাদভি অযোধ্যার বিতর্কিত স্থান থেকে বাবরী মসজিদ অন্যত্র নির্মাণ করা সংক্রান্ত যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়েছে। ভারতে 'আধ্যাত্মিক গুরু' নামে পরিচিত শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করে ল’ বোর্ডের সদস্য মাওলানা সালমান হুসেইন নাদভি বলেন, ‘অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির হলে তাদের আপত্তি নেই। এর পরিবর্তে মসজিদ তৈরির জন্য মুসলিমদের এক খণ্ড জমি দেয়া হোক।’ গণমাধ্যমে তার এ ধরণের মন্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। মাওলানা সালমান হুসেইন নাদভির বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রতিবেদনে সুপারিশের ভিত্তিতে ল’ বোর্ডে সর্বসম্মতিতে অবশেষে মাওলানা সালমান হুসেইন নাদভির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। নাদভির মন্তব্য শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল: রইসউদ্দিন এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ থেকে হায়দ্রাবাদে মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সভায় যোগ দেয়া বিশিষ্ট সিনিয়র সদস্য ডা. ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের পুরোনো অবস্থান থেকে সরে গিয়ে সালমান নাদভি যে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন তা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। এ ব্যাপারে যে তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছিল তারা তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন। এরপরেই বোর্ডের পক্ষ থেকে তার সদস্য পদ খারিজ করে দেয়া হয়েছে।’ এক্ষেত্রে ল’ বোর্ডের অবস্থান হল, মসজিদ যেখানেই নির্মাণ করা হোক কিয়ামত পর্যন্ত তা সেখানেই থাকবে। তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়া যাবে না। আল্লাহ্র ঘরের কোনো জায়গাকে গায়রুল্লাহ'র উপাসনার জন্য দেয়া যায় না। মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের সদস্য ডা. রইসউদ্দিন বলেন, ‘মাওলানা সালমান নাদভি গত কিছুদিন ধরে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিচ্ছেন যে বাবরী মসজিদের জায়গা প্রয়োজনে বিনিময় করা যেতে পারে। এ সম্পর্কিত তিনি যে দলিল দিয়েছেন তা নির্ভরযোগ্য নয়। তার ওই অভিমত উম্মতে মুসলেমা ও মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সম্মিলিত অভিমতের বিরুদ্ধ। এর পূর্বে সালমান নাদভি যত বৈঠকে ছিলেন সেখানেও তিনি 'মসজিদ আল্লাহ্র ঘর এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার কোনো পরিবর্তনের প্রশ্ন নেই' বলেছেন। কিন্তু এখন তিনি যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে তিনি বাবরী মসজিদের জায়গা পরিবর্তনের কথা বলার পাশাপাশি অন্য বোর্ড গঠন করতে চান এবং তিনি নিজেই বর্তমান বোর্ড থেকে বেরিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন। এসব ঘটনাকে সামনে রেখে শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে পার্সোনাল ল’ বোর্ড তাকে তার সদস্য পদ খারিজ করে দিয়েছে।’ এদিকে, মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের সিনিয়র সদস্য সাইয়্যেদ কাশিম রসুল ইলিয়াস বলেন, ‘বোর্ড তার পুরোনো অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদকে স্থানান্তর, বিক্রি বা উপহার দেয়া যায় না। সালমান নাদভি এ ব্যাপারে সর্বসম্মত রায়ের বিরুদ্ধে যাওয়ায় তাকে বোর্ড থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।' নাদভির মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক: কামরুজ্জামান মাওলানা সালমান নাদভির মন্তব্যকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করে মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।